রায়হান সিদ্দিক: 

রপ্তানি বন্ধ করেও কমেনি ইলিশ মাছের দাম। বরং গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে কেজি প্রতি বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, সাগরে ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই সরবরাহও কম। তবে একে অজুহাত বলছেন ভোক্তারা। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যসত্ত্বভোগীর দৌরাত্ম্য না কমলে সুফল পাওয়া যাবে না। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) যশোরের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঝুড়ি ঝুড়ি ইলিশ নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা আসছেন, মাছ দেখছেন তবে অধিকাংশই না কিনে চলে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। যা গত মৌসুমে ছিলো ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে ছোট সাইজের মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি সাড়ে ৪০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। আর এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড়কেজি সাইজের এক পিস ইলিশ কিনতে গেলে গুনতে হবে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। বাজারে ইলিশের দাম শুনে অধিকাংশ ক্রেতা খালি হাতেই ফিরছেন।

হাবিবুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, এবছর ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করার পরও ইলিশের দাম আকাশচুম্বী। বিভিন্ন সময় স্যোসাল মিডিয়ায় দেশের জাতীয় এই মাছের দাম নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হয়েছে। আজ বাজারে ইলিশ কিনতে এসে দেখলাম দাম আগের তুলনায় বেশি। তাই মাছ না কিনেই ফিরে যাচ্ছি। 

সুরাইমা বেগম নামে একজন ক্রেতা বলেন, বিগত কয়েক বছর ইলিশ মাছের দাম বেশি থাকায় আমরা নিম্নবিত্তরা ইলিশের স্বাদ পায়নি। অথচ ভারতীয়রা আমাদের থেকে কম দামে ইলিশ কিনে খেয়েছেন। যখন আমরা জানতে পারলাম ভারতে আর ইলিশ মাছ পাঠানো হবে না এবং দেশে মাছের দাম সহনশীল পর্যায়ে নেমে আসবে তখন খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাজারে এসে দেখি ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি। এই দামে ইলিশ কেনা প্রায় অসম্ভব।

ইলিশের যোগান আসে মূলত চাঁদপুর, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, উজান থেকে বন্যার পানি আসায় ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম তাই দাম কমছে না। ইলিশ বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাছ ভারতে যাচ্ছে না এটা ঠিক। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। সবমিলিয়ে ইলিশ উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি। তাই দাম কমছে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যশোরের বাজারে বড় ইলিশ একে বারেই কম; তাই দাম একটু বেশি। তবে ছোট সাইজের ইলিশের সরবারহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কম আছে।

এরশাদ আলী জানান, মৌসুম শেষের দিকে এবং নদীতে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের সরবরাহ কমে গেছে। বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুরসহ উপকূলীয় এলাকায় ইলিশের দাম এখনও চড়া। জেলেদের দাবি মাছ ধরতে গিয়ে তারা বেশি খরচ করছেন কিন্তু মাছ পাচ্ছেন কম। আড়তদার ফরহাদ হোসেন বলেন, যশোরের বাজারে প্রতিদিন গড়ে ২শ থেকে ৩শ মণ ইলিশ মাছ বিক্রি হয়। তবে গেলো কদিন ইলিশের বাজার ডাউন। ক্রেতা সমাগম থাকলেও বিক্রি হচ্ছে না। মূলত দাম নিয়ে ক্রেতা সন্তুষ্ট না। ফলে প্রায়ই ক্রেতা বিক্রেতা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন।

এদিকে ভোক্তারা মনে করছেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ইলিশের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। ইলিশ মাছ ধরার পর তা আড়তদার এবং খুচরা বিক্রেতাদের হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে পৌঁছায়, ফলে দাম বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম নাগালে রাখতে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জেলেদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দাম নাগালের মধ্যে আনতে হলে বিভিন্নভাবে যে হাতবদল হয় সেটা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। জেলেরা ব্যবসায়ীদের কাছে ধরা, সেখান থেকে তাদের বের করে আনতে হবে।