রায়হান সিদ্দিক 

জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করতে হলে অবশ্যই শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হবে। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হলে তা সম্পদ। আর এই সম্পদই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্পদ। অন্যান্য সম্পদ আমরা এখন যা ব্যবহার করছি তা কোনো না কোনো সময় শেষ হবে। কিন্তু মানুষ যদি চেষ্টা করে তবে এর বিকল্প মানুষই উদ্ভাবন করতে পারে।  "৮শ কোটির পৃথিবী: সকলের সুযোগ, পছন্দ ও অধিকার নিশ্চিত করে প্রাণবন্ত ভবিষ্যৎ গড়ি" স্লোগানে ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসন ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়োজনে আলচনা সভায় প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ) রফিকুল হাসান এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যুহারে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। জনসংখ্যা দারিদ্র্য সৃষ্টি করে কিনা সেটা নির্ভর করে জনসংখ্যাকে কীভাবে তৈরি করা হয় তা র ওপর। যেমন, প্রতিটি মানুষ যদি শিক্ষা লাভের আওতায় আসে, প্রযুক্তি জ্ঞানের অধিকারী হয় এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয় তাহলে সে নিজেকে সম্পদ হিসেবেই গড়ে তোলে। প্রতিটি মানুষই একজন সম্পদ। সেজন্য তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। সবসময় রাষ্ট্রের এই সক্ষমতা পুরোপুরি থাকে না। ক্রমে তা অর্জন করতে হয়। বিশাল জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জ নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী যখন তার সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে ব্যস্ত থাকে অর্থাৎ পরিশ্রমী থাকে তাহলে নিজ থেকেই তারা জন্মহার নিয়ন্ত্রণ করবে। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ডিএসবি) ফিরোজ কবীর বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাসস্থানের সুযোগ, কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি, আবাদি জমি রক্ষা, পুকুর ডোবা ভরাট থেকে বিরত থাকতে হবে। বর্তমানে দেখা যায় পথশিশুরা অবহেলায় বা অনাদরে বড় হচ্ছে, যাদের এই সমাজে শিক্ষা থেকে সবকিছু পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা পাচ্ছে না। এ ধরনের অধিকার না পাওয়াদের সংখ্যাও বাড়তে থাকলে। আমাদের দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত হবে। সমাজে বিশৃঙ্খলার দেখা দিতে পারে, অস্থিরতা বাড়তে পারে, দ্বিধাগ্রস্ত যুবকের সংখ্যা বাড়তে পারে । যারা আমাদের দেশের সম্পদ হতে পারে। কিন্তু তাদের সেই মেধা, সেই যোগ্যতা কাজে না লাগাতে পারলে জনসম্পদ রূপান্তর করা কঠিন হয়ে পড়বে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে সফল করতে হলে সবার মধ্যে চাই সচেতনতা। সচেতন না হলে কোনো কার্যক্রমই ফলপ্রসূ হবে না। ব্যর্থতার আবর্তেই সব ঘুরপাক খাবে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক বলেন, ১৬-১৭ কোটি মানুষের এই দেশে ইতোমধ্যেই জনসংখ্যার অতিরিক্ত বৃদ্ধিজনিত কারণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাল্যবিবাহ রোধ করা জরুরি। গ্রামাঞ্চলে এটি আশঙ্কাজনক হারেই বেড়ে চলেছে। করোনা মহামারীর সময় এই সংখ্যা আরও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিণত বয়স হওয়ার আগেই নাবালিকা গর্ভধারণ করছে। এতে সেই মায়ের ঝুঁকি বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। মাঝে মাঝে পত্রপত্রিকায় এসব বিয়ে ঠেকানোর নানা খবর চোখে পড়ে। আবার চোখে পরে জেএসসি বা এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনেকেই অনুপস্থিত থাকে কেবল বাল্যবিয়ের কারণে। প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক ধারণা সুদূর গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। কারণ কুসংস্কার এবং অজ্ঞানতা থেকে বের করতে না পারলে স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। আমাদের সম্পদ সীমিত। আর সীমিত সম্পদ দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এই সম্পদকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়েই এ সম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় যথাযথ গুরুত্বারোপ করতে হবে। হাতে কলমে শেখার কোনো বিকল্প নেই। 

আলোচনা সভায় পরিবার পরিকল্পনা যশোরের উপপরিচালক কাজী ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শিক্ষা অফিসার এ কে এম গোলাম আযম, জেলা পরিবার পরিকল্পনার   

রিজিওনাল কনসালটেন্ট  ডা. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, এফ পি এবি জেলা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ক্লিনিক ম্যানেজার ওমর ফারুক, পরিবার পরিকল্পনা যশোরের সহকারি পরিচালক আলিফ নূর প্রমুখ। 

আলোচনা সভার শুরুতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং সভা শেষে  জেলা ও সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ্য কর্মিদের মাঝে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়।